ডিজিটাল ব্যবহার: সমাজের উপর অপ্রত্যাশিত প্রভাব এবং পরিত্রাণের উপায়গুলো

webmaster

**

A family-friendly scene showing a professional businesswoman in a modest business suit, sitting at a desk in a modern office, fully clothed, appropriate attire, safe for work, perfect anatomy, natural proportions, professional photography, high quality. The setting includes colleagues working in the background, fostering a collaborative and supportive environment.

**

বর্তমান যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সমাজের প্রতিটা স্তরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে। এই প্রযুক্তি যেমন আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনই কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। সামাজিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, অর্থনীতি—সবকিছুতেই এর একটা বড় প্রভাব দেখা যায়। এই ডিজিটাল ব্যবহার আমাদের সংস্কৃতি এবং মূল্যবোধের উপর কেমন প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে আলোচনা করা এখন খুব জরুরি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ডিজিটাল মাধ্যম একদিকে যেমন সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে, তেমনই এর কিছু খারাপ দিকও রয়েছে যা আমাদের সমাজকে প্রভাবিত করছে।আসুন, এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে খুঁটিনাটি বিষয়গুলো জেনে নেওয়া যাক। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

১. স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারে সামাজিক সম্পর্কের পরিবর্তন

যবহ - 이미지 1

ক. সরাসরি যোগাযোগের অভাব

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের প্রবণতা কমে যাচ্ছে। আগে মানুষ একে অপরের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে পছন্দ করত, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিত এবং একসাথে সময় কাটাত। কিন্তু এখন বেশিরভাগ মানুষই ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেক বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা এখন সরাসরি দেখা করার চেয়ে মেসেঞ্জারে বা হোয়াটসঅ্যাপে চ্যাট করতেই বেশি আগ্রহী। এর ফলে, আন্তরিকতা এবং ব্যক্তিগত সংযোগের অভাব দেখা যাচ্ছে। চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার যে উষ্ণতা, সেটা যেন ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। একটা সময় ছিল, যখন সবাই মিলে একসাথে বসে গল্প করতাম, হাসি-ঠাট্টা করতাম। এখন হয়তো সেই মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ার স্ক্রিনে বন্দী হয়ে গেছে।

খ. পরিবার এবং বন্ধুদের মধ্যে দূরত্বের সৃষ্টি

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে পরিবার এবং বন্ধুদের মধ্যে একটা অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়েছে। একসাথে থাকলেও, সবাই যেন নিজের নিজের ডিভাইসে ডুবে থাকে। রাতের খাবার টেবিলে বসেও দেখা যায়, সবাই নিজের ফোনে ব্যস্ত। কেউ হয়তো ফেসবুক স্ক্রল করছে, কেউবা ইউটিউবে ভিডিও দেখছে। ফলে, পারিবারিক বন্ধন এবং বন্ধুদের মধ্যে যে স্বাভাবিক সম্পর্ক, তা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। আমি নিজে দেখেছি, আমার পরিবারের সদস্যরা আগে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করত, একে অপরের মতামত নিত। কিন্তু এখন সবাই যেন ভার্চুয়াল জগতে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতেই বেশি আগ্রহী। এর ফলে, বাস্তব জীবনে একটা নীরবতা নেমে এসেছে।

২. শিক্ষাখাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব

ক. অনলাইন শিক্ষার প্রসার

ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইন শিক্ষা এখন অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং সহজলভ্য। শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসেই বিশ্বের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোর্স করতে পারছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম যেমন Coursera, Udemy, Khan Academy ইত্যাদি শিক্ষার্থীদের জন্য অসংখ্য সুযোগ নিয়ে এসেছে। আমি নিজে একটি অনলাইন কোর্স করে দেখেছি, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছে। শিক্ষকরা লাইভ ক্লাস নিচ্ছেন, অ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন। এটি সত্যিই শিক্ষার একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

খ. শিক্ষকের ভূমিকা পরিবর্তন

অনলাইন শিক্ষার প্রসারের ফলে শিক্ষকের ভূমিকাও পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন শিক্ষকরা শুধু লেকচার দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নন, বরং তারা শিক্ষার্থীদের মেন্টর এবং ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করছেন। তারা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করছেন, তাদের পথ দেখাচ্ছেন এবং তাদের শেখার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করে তুলছেন। একজন শিক্ষকের কাজ এখন শুধু তথ্য দেওয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমালোচনামূলক চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করা।

৩. কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিতে ডিজিটাল প্রভাব

ক. নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি

ডিজিটাল প্রযুক্তি কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ই-কমার্সের প্রসারের ফলে অসংখ্য নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ডেটা অ্যানালিস্ট, ডিজিটাল মার্কেটার, ওয়েব ডেভেলপার, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর—এমন অসংখ্য ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে। আমি দেখেছি, অনেক তরুণ এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ভালো উপার্জন করছে এবং নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে। এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।

খ. ডিজিটাল বৈষম্য

ডিজিটাল প্রযুক্তি উন্নয়নের পাশাপাশি ডিজিটাল বৈষম্যও সৃষ্টি করেছে। এখনও অনেক মানুষ ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার এবং ইন্টারনেট অ্যাক্সেস থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকা এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই বৈষম্য বেশি দেখা যায়। এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে না পারলে, উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সরকারের উচিত এই বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া এবং সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।

৪. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব এবং অপপ্রচার

ক. মিথ্যা তথ্যের বিস্তার

সোশ্যাল মিডিয়াতে খুব দ্রুত গুজব এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই মানুষ যেকোনো খবর বিশ্বাস করে এবং শেয়ার করে দেয়। এর ফলে সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং অনেক নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি নিজে এমন অনেক ঘটনা দেখেছি, যেখানে মিথ্যা তথ্যের কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হয়েছে। তাই, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে এবং যেকোনো খবর শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে।

খ. সাইবার বুলিং

সাইবার বুলিং একটি মারাত্মক সমস্যা, যা বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশি দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, হুমকি এবং অপমানের শিকার হয়ে অনেক তরুণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সাইবার বুলিংয়ের কারণে অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে বাধ্য হয়। এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানদের অনলাইন অ্যাক্টিভিটিজের উপর নজর রাখা এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালনা করা।

৫. সংস্কৃতি এবং বিনোদনে ডিজিটাল প্রভাব

ক. সংস্কৃতির পরিবর্তন

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাবে আমাদের সংস্কৃতিতেও অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষ বিদেশি সংস্কৃতি এবং বিনোদন বেশি উপভোগ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, তরুণ প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে তেমন কিছু জানে না। এটি আমাদের সংস্কৃতির জন্য একটি বড় হুমকি। আমাদের উচিত নিজেদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া।

খ. বিনোদনের নতুন মাধ্যম

ডিজিটাল প্রযুক্তি বিনোদনের নতুন মাধ্যম তৈরি করেছে। এখন মানুষ সিনেমা হল বা থিয়েটারে যাওয়ার চেয়ে অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে সিনেমা এবং সিরিয়াল দেখতে বেশি পছন্দ করে। Netflix, Amazon Prime Video, Hotstar-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এখন বিনোদনের অন্যতম উৎস। এর ফলে, বিনোদন শিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং নির্মাতারা দর্শকদের জন্য নতুন নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

৬. স্বাস্থ্যখাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার

ক. টেলিমেডিসিন

ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে টেলিমেডিসিন এখন অনেক জনপ্রিয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষজনও এখন ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারছে। এটি স্বাস্থ্যখাতে একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে রোগীরা দ্রুত এবং সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে।

খ. স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ

বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ এখন মানুষের হাতের মুঠোয়। এই অ্যাপগুলোর মাধ্যমে মানুষ তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে জানতে পারছে, নিজেদের ডায়েট এবং ফিটনেস ট্র্যাক করতে পারছে এবং ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারছে। এই অ্যাপগুলো মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে উৎসাহিত করছে এবং সুস্থ জীবনযাপনে সাহায্য করছে।

বিষয় ইতিবাচক প্রভাব নেতিবাচক প্রভাব
যোগাযোগ দূরত্বের বাধা কমেছে, দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব সরাসরি যোগাযোগের অভাব, আন্তরিকতা কমে যাওয়া
শিক্ষা অনলাইন শিক্ষার সুযোগ, সহজলভ্যতা ডিজিটাল বৈষম্য, শিক্ষকের ভূমিকা পরিবর্তন
কর্মসংস্থান নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সিং কাজের ধরন পরিবর্তন, অটোমেশনের ঝুঁকি
তথ্য সহজে তথ্যপ্রাপ্তি, জ্ঞানের বিস্তার গুজব এবং মিথ্যা তথ্যের বিস্তার, বিভ্রান্তি
সংস্কৃতি সংস্কৃতির বিনিময়, নতুন বিনোদন মাধ্যম নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি উদাসীনতা, বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব
স্বাস্থ্য টেলিমেডিসিন, স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি

৭. ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা

ক. ডেটা সুরক্ষা

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণে রাখা হয়। এই ডেটা সুরক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, হ্যাকাররা ডেটা চুরি করে নেয় এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেয়। এর ফলে, মানুষের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হয় এবং তারা নানা ধরনের ক্ষতির শিকার হয়। তাই, আমাদের উচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজেদের ডেটা সুরক্ষিত রাখা এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।

খ. পরিচয় চুরি

অনলাইনে পরিচয় চুরির ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। হ্যাকাররা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ করে থাকে। এর ফলে, নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাদের সম্মানহানি হয়। এই বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে এবং নিজেদের পরিচয় সুরক্ষিত রাখতে হবে।

৮. আসক্তি এবং মানসিক স্বাস্থ্য

ক. স্মার্টফোনের আসক্তি

স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অনেক মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই আসক্তি তাদের দৈনন্দিন জীবন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। স্মার্টফোনের আসক্তির কারণে অনেকে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারে না, যা তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

খ. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা

অতিরিক্ত অনলাইন ব্যবহারের কারণে অনেকে সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তারা বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সাথে কম সময় কাটায় এবং ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় দেয়। এর ফলে, তাদের মধ্যে একাকিত্ব এবং হতাশা বাড়তে থাকে। আমাদের উচিত অনলাইন এবং অফলাইন জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সামাজিক সম্পর্কগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া।

উপসংহার

ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রভাব আমাদের জীবনে অনেক পরিবর্তন এনেছে। একদিকে যেমন এটি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, অন্যদিকে কিছু নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। আমাদের উচিত এই প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং এর খারাপ দিকগুলো থেকে নিজেদের রক্ষা করা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার আমাদের সমাজ এবং জীবনযাত্রাকে আরও উন্নত করতে পারে। আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর এবং সমৃদ্ধ ডিজিটাল সমাজ গড়ি।

দরকারী তথ্য

১. স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য স্ক্রিন থেকে দূরে তাকান।

২. রাতে শোয়ার আগে ফোন ব্যবহার করা বন্ধ করুন, ভালো ঘুমের জন্য এটি জরুরি।

৩. সোশ্যাল মিডিয়াতে অতিরিক্ত সময় না দিয়ে বন্ধুদের সাথে সরাসরি দেখা করুন।

৪. অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার আগে ভালোভাবে চিন্তা করুন।

৫. স্বাস্থ্য বিষয়ক অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের ফিটনেস এবং ডায়েট ট্র্যাক করুন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ

যোগাযোগের ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দিন।

শিক্ষাখাতে অনলাইন শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষকের গুরুত্ব বজায় রাখুন।

কর্মসংস্থানে ডিজিটাল সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন এবং বৈষম্য দূর করুন।

গুজব এবং অপপ্রচার থেকে বাঁচতে তথ্য যাচাই করুন।

নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যকে ধরে রাখুন।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার করুন।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

স্মার্টফোনের আসক্তি থেকে নিজেকে বাঁচান এবং মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: ডিজিটাল প্রযুক্তির ভালো দিকগুলো কি কি?

উ: ডিজিটাল প্রযুক্তির অনেক ভালো দিক আছে। প্রথমত, এটা যোগাযোগকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন আমরা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সাথে কথা বলতে পারি, ভিডিও কল করতে পারি। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ক্ষেত্রে এটি একটি বিপ্লব এনেছে। অনলাইনে অনেক কোর্স এবং শিক্ষামূলক উপকরণ পাওয়া যায়, যা শেখাটাকে আরও সহজ এবং মজাদার করে তুলেছে। তৃতীয়ত, ব্যবসার ক্ষেত্রেও এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অনলাইনে নিজের পণ্য বিক্রি করা বা সার্ভিস দেওয়া এখন অনেক সহজ, যা ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য খুবই উপযোগী। আমি নিজে দেখেছি, আমার এক বন্ধু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তার হস্তশিল্পের ব্যবসা শুরু করেছে এবং এখন সে বেশ ভালো আয় করছে।

প্র: ডিজিটাল প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলো কি কি?

উ: ডিজিটাল প্রযুক্তির খারাপ দিকগুলোও কম নয়। প্রথমত, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে চোখের সমস্যা, ঘুমের সমস্যা এবং মানসিক চাপ বাড়তে পারে। দ্বিতীয়ত, সাইবার ক্রাইম বা অনলাইন প্রতারণার ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। হ্যাকাররা বিভিন্ন উপায়ে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। তৃতীয়ত, সামাজিক সম্পর্কগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। মানুষ এখন সামনাসামনি কথা বলার চেয়ে অনলাইনে চ্যাট করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে, যা বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আমার পরিচিত একজন, সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়াতে থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে।

প্র: ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের সংস্কৃতিতে কি প্রভাব ফেলছে?

উ: ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের সংস্কৃতিতে একটা মিশ্র প্রভাব ফেলছে। একদিকে, আমরা বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারছি, যা আমাদের জ্ঞান এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রসারিত করছে। অন্যদিকে, নিজস্ব সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য হারানোর একটা ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। অনেক তরুণ এখন বিদেশি সংস্কৃতিকে বেশি অনুসরণ করছে, নিজেদের ঐতিহ্য এবং ভাষার প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। আমি মনে করি, আমাদের উচিত ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে নিজেদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা। যেমন, আমরা অনলাইনে বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন উপাদান, গান, নাটক ইত্যাদি ছড়িয়ে দিতে পারি, যাতে নতুন প্রজন্ম আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে এবং গর্ববোধ করে।

📚 তথ্যসূত্র